৬ষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান ষান্মাসিক/সামষ্টিক মূল্যায়ন অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন

ধাপ (প্রথম দ্বিতীয় সেশন)

কাজ: কোভিড পরিস্থিতিতে তারা কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে? এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে কে কীভাবে জেনেছে?

উত্তর: কোভিড পরিস্থিতিতে মেনে চলা স্বাস্থ্যবিধিগুলো নিচে দেওয়া হলো:-

১। ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুত করেছি।

২। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রেখেছি।

৩। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করেছি এবং ব্যবহারের শেষে তা আগুণে পুড়িয়ে ফেলেছি।

৪। মুখে মাস্ক ব্যবহার করেছি।

৫। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকেছি।

৬। মাংস,ডিম খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করেছি।

৭। বাড়ির বাহিরে বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে যাইনি

৮। ভিড় এড়িয়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছি ।

৯ । সুষম খাবার গ্রহণ করেছি।

এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশি, সংবাদপত্র, টিভি এবং স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে জেনেছি।

কাজ: এই উৎসগুলোর মধ্যে কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম আছে কিনা, এবং এই মাধ্যমগুলো কীভাবে সবার কাছে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক তথ্যগুলো পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে?

উত্তর: করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মাধ্যম সবার কাছে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক তথ্যগুলো পৌঁছে দেই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টিভি, সংবাদপত্র, এবং ইন্টারনেট। এই মাধ্যমগুলো সহজেই কোভিড-১৯ বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে জনসাধারনে কাছে পৌঁছে দেই। তারা বিভিন্ন সময়ে ভাইরাসটির ঝুঁকি, প্রতিকার, প্রতিরোধ নিয়ে সভা-সমাবেশ, লিফলেট, অডিও -ভিডিও কন্টেন্ট ডিজিটাল পোস্টার সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রকাশ করে জনগণকে সচেতন ও ভাইরাসটি সম্পর্কে অবগত করেছে।

কাজ: অতিমারীর সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিষয়ক কোনো ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে কি না, ছড়ালে সেগুলো কী?

উত্তর: অতিমারীর বা কোভিড-১৯ এর সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু দুষ্ট লোক এই বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে। এগুলো হলো-

১। ঘন ঘন পানি পান করলে করোনা ভাইরাস হয় না ।

২। ধুমপান করলে করোনা ভাইরাস হয় না ।

৩। আইসক্রীম ও ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেলে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করে।

৪। রসুন খেলে করোনা ভাইরাস আক্রমন করে না।

৫। পানিতে ক্লোরিন মিশিয়ে পান করলে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করে না।

৬ । থানকুনি পাতা খেলে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করে না।

কাজ: কোভিড শুরুর দিকে মানুষে মধ্যে কোনো ভ্রান্ত ধারণা ছিল কি? সেগুলো কী? সময়ের সাথে তাদের চিন্তায় কোনো পরিবর্তন কি এসেছে?

উত্তর: হ্যাঁ, কোভিড শুরুর দিকে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:-

১। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ নয়।

২। বাংলাদেশের মতো গরম অঞ্চলে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ বাঁচে না।

৩। গরম পানিতে গোসল করলে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব।

৪। নিউমোনিয়া প্রতিষেধক করোনাভাইরাস ঠেকাতে সহায়তা করে।

৫। লবণ পানি দিয়ে নাক-মুখ-চোখ ধূলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব।

৬ । গরম পানি খেলেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সময়ের সাথে সাথে এই সব ভ্রান্ত চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল এবং নন-ডিজিটাল মাধ্যমের কল্যাণে মানুষ এখন আগের থেকে অনেক সচেতন। কোন তথ্যগুলো সত্য এবং কোনগুলো মিথ্যা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে।

ধাপ (তৃতীয় চতুর্থ সেশন)

কাজ: এবার শিক্ষার্থীদের কাজ প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা। কোভিড অতিমারীর শুরুর দিকে মানুষের কী কী ভ্রান্ত ধারণা ছিল এবং সময়ের সাথে চিন্তায় কী পরিবর্তন এসেছে তা রেকর্ড করতে, এবং কেনো এই পরিবর্তনগুলো এসেছে তা বিশ্লেষণ করতে বলুন।

উত্তর: হ্যাঁ, কোভিড শুরুর দিকে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ নয়।

২। বাংলাদেশের মতো গরম অঞ্চলে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ বাঁচে না ।

৩। গরম পানিতে গোসল করলে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব।

৪। নিউমোনিয়া প্রতিষেধক করোনাভাইরাস ঠেকাতে সহায়তা করে ।

৫। লবণ পানি দিয়ে নাক-মুখ-চোখ ধূলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব।

৬ । গরম পানি খেলেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সময়ের সাথে সাথে এই সব ভ্রান্ত চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল এবং নন-ডিজিটাল মাধ্যমের কল্যাণে মানুষ এখন আগের থেকে অনেক সচেতন। কোন তথ্যগুলো সত্য এবং কোনগুলো মিথ্যা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে।

কাজ.: অতিমারীর সময়ে তথ্য বিনিময় প্রচারের বিভিন্ন প্রযুক্তির ইতিবাচক নেতিবাচক ব্যবহার চিহ্নিত করতে বলুন।

  • কোভিড১৯ চলাকালীন বিভিন্ন প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার:

রিমোট ওয়ার্ক এবং কোলাবোরেশন টুলস : ভিডিও কনফারেন্সিং, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং মেসেজিং অ্যাপের মতো প্রযুক্তিগুলি ব্যবসা এবং সংস্থাগুলিকে দূরবর্তীভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, কর্মীদের বিঘ্ন কমিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে সক্ষম করেছে।

 

লার্নিং এবং অনলাইন শিক্ষা: অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং শিক্ষামূলক সরঞ্জামগুলি সমস্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য দূরবর্তী শিক্ষার সুবিধা দিয়েছে, লকডাউন এবং স্কুল বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে।

টেলিমেডিসিন: টেলিহেলথ পরিষেবা এবং দূরবর্তী পরামর্শ ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে কোনও ডাক্তারের অফিসে না গিয়েই চিকিৎসা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলি অ্যাক্সেস করার অনুমতি দিয়েছে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি হ্রাস করে এবং স্বাস্থ্যসেবার অব্যাহত অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে।

ডেলিভারি পরিষেবা: অনলাইন খাদ্য বিতরণ, মুদি সরবরাহ, এবং অন্যান্য ধরণের যোগাযোগহীন বিতরণ পরিষেবাগুলি শারীরিক মিথস্ক্রিয়া হ্রাস করার সাথে সাথে লোকেদের প্রয়োজনীয় পণ্য এবং পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

  • কোভিড-১৯ চলাকালীন বিভিন্ন প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার:

ভুল তথ্য এবং ফেক নিউজ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং মেসেজিং অ্যাপগুলি ভাইরাস সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং জাল খবরের দ্রুত বিস্তারের জন্য চ্যানেল হয়েছে, যা আতঙ্ক, বিভ্রান্তি এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকারক আচরণের কারণ।

 

সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির সাথে, ব্যক্তি, ব্যবসা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার আক্রমণ এবং অনলাইন স্ক্যাম বেড়েছে, কোভিড-১৯ সম্পর্কিত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে।

নজরদারি এবং গোপনীয়তা উদ্বেগ: লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য এবং মহামারী চলাকালীন ব্যক্তিদের গতিবিধি নিরীক্ষণের জন্য নজরদারি প্রযুক্তি, যেমন মুখের স্বীকৃতি, অবস্থান ট্র্যাকিং এবং ড্রোনের ব্যবহার গোপনীয়তার অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা সম্পর্কে উদ্বেগ উত্থাপন করেছে।

কাজ.: অতিমারীর প্রকোপ কমে গেলেও সবার কী ধরনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত প্রতিটি দল তার তালিকা করবে, এবং সবচাইতে সহজলভ্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই তথ্যগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় তা নির্বাচন করবে।

উত্তর: অতিমারীর প্রকোপ কমে গেলেও সবার যে ধরনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত তার তালিকা নিম্নরূপঃ

১। প্রতিদিন অবশ্যই সকালের খাবারসহ পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

২। খাওয়ার আগে হাত ধোয়।

৩ । বাইরের খোলা ও কৃত্রিম রং যুক্ত খাবার না খাওয়া ।

৪। দিনে কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা ।

৫। শরীরের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষম থাকার জন্য সুষম খাবার খাওয়া।

৬ । প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে খাবারের পরে দাঁত পরিষ্কার করা

৭। নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলা করা।

৮। পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং বিশ্রাম নেওয়া।

৯। বেশি রাত না জাগা এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠা।

সবচেয়ে সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই তথ্যগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া: বর্তমানে ইন্টারনেটের দাম কম হওয়া এবং ফেইসবুজ, ম্যাসেনজার, ইউটিউবের জনপ্রিয়তায় খুব সহজেই কম খরচে অধিক মানুষের কাছে এই তথ্যগুলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু নন-ডিজিটালি অর্থাৎ লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার ফেস্টুন এই গুলোর খরচ বেশি এবং অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে তথ্যগুলো না পৌঁছানোর কারণে সবচেয়ে সহজলভ্য প্রযুক্তি হিসেবে আমি ডিজিটাল প্রযুক্তি অর্থাৎ ইন্টারনেটকে বেছে নিয়েছে।

ধাপ: (চূড়ান্ত উপস্থাপনের দিন)

কাজ: প্রতিবেদন তৈরি।

যমুনা দল, ১৫-০৬-২০২৩ইংরেজি।।

প্রথমেই এই নতুন অস্যাইনমেন্টের সাথে পরিচিত হয়ে কিছুটা ভীতস্থবোধ করেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে স্যার আমাদের সামষ্টিক মূল্যায়নের পুরো কাজটি কিভাবে সম্পন্ন করতে হবে তা বুঝিয়ে দেয়। প্রথম সেশনে দলের সবাই মিলে কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি কিভাবে মেনে চলেছে এবং তারা কিভাবে তথ্যগুলো সম্পর্কে জেনেছে, সেই সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বন্ধু, শিক্ষক, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। তাছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে তথ্য সম্পর্কিত কোনো ভ্রান্ত ধারণা বা গুজব ছড়িয়েছে কী এবং সেগুলো কী? এগুলো সম্পর্কে বিস্তর ধারণা সংগ্রহ করেছি। এমনকি অতিমারীর প্রকোপ কমে গেলেও কী ধরনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেন চালা উচিত তার তালিকা দলগতভাবে তৈরি করেছি। একইসাথে এই তথ্যগুলো কিভাবে অন্যমানুষদের কাছে পৌঁছানো যায় তার জন্য সহজলভ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যম নির্বাচন করেছি। প্রত্যেক সেশনের ক্ষেত্রেই কাজগুলো শেষ করার পরপরই স্যারদেরকে কাজটি দেখিয়েছি এবং কোনো প্রকার কারেকশনের প্রয়োজন হলে করেছি; সব ঠিকঠাক থাকলে আমার দলের কাজগুলো স্কুলে জমা দিয়েছি।

আরো দেখুনঃ ৬ষ্ঠ শ্রেণির ICT বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্দেশনা ২০২৩ || ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়টি থেকে প্রশ্ন যা থাকবে

৭ম শ্রেণির বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্দেশনা ২০২৩ || জীবন ও জীবিকা বিষয়টি থেকে প্রশ্ন যা থাকবে

৭ম শ্রেণির গণিত বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্দেশনা ২০২৩ || গণিত বিষয়টি থেকে প্রশ্ন যা থাকবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here